চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন


মঙ্গলবার ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিডি সেমিনার কক্ষে “এন্টিমাইক্রোবায়াল রেসিস্টান্স(এ.এম.আর) ঃ আ গ্লোবাল থ্রেট “ শীর্ষক এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান।

বক্তব্যের শুরুতেই ডা. খান এন্টিবায়োটিক রেসিস্টান্স (এ.এম.আর) সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থিত শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন।পেনিসিলিন আবিষ্কার করে আলেকজেন্ডার ফ্লেমিং সারা পৃথিবীতে হই চই ফেলে দিয়েছিলেন।সেই থেকে এন্টিবায়োটিকের যাত্রা শুরু। আজ এন্টিবায়োটিকের ব্যাবহার চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বত্র। রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করাই এন্টিবায়োটিকের মূল কাজ। তবে শরীরে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে সম্পূর্ণ রুপে ধ্বংস করার জন্যে প্রতিটি এন্টিবায়োটিক সিরিজের রয়েছে বিশেষ ডোজ। অনেক সময় দেখা যায় ভুল চিকিৎসা কিংবা রোগীর অবহেলার কারনে এই ডোজ সম্পূর্ণ করা হয় না ।ফলে দ্রুত বিভাজন ও অভিযোজনক্ষম ব্যাকটেরিয়া হয়ে ওঠে এন্টিবায়োটিক সহিষ্ণু এবং পূর্বের চেয়ে শক্তিশালী। শুধু তাই নয় একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ওই সিরিজের এন্টিবায়োটিকের কর্মক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে লোপ পায়। একেই বলে এন্টিমাইক্রোবায়াল রেসিস্টান্স(এ.এম.আর)। অনগ্রসর গোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবার পথে এ.এম.আর এখন এক বড় বাধা।

ডা. মো. ইসমাইল খান আরও বলেন “একটি কম্যুনিটিতে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল পেশার মানুষকে সচেতন হতে হবে।চিকিৎসকদের এন্টিবায়োটিক প্রেস্ক্রাইব করার পূর্বে আরও সতর্ক হতে হবে।শরীরের স্বাভাবিক নিরাময় প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে রোগ উপশম করাই শ্রেয়।একজন রোগীকে শুধু শারীরিক নয় মানসিক ভাবে পর্যবেক্ষণ করারও প্রয়োজন রয়েছে।চিকিৎসা সেবা শুধু সংখ্যা দিয়ে নয় গুনগত মান দিয়ে বিচার করার প্রয়োজন।এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চিকিৎসকদের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা দর্শনও ধারন করতে হবে।“

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইটিডির পরিচালক এম এ হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় উপ রেজিস্ট্রার ডা. হাসিনা নাসরিন, বিআইটিডির উপ-পরিচালক হোসেন রশিদ এবং সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইটিডির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ।এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইটিডি,ফৌজদারহাট নার্সিং কলেজ,চট্টগ্রাম বক্ষব্যাধি হাস্পাতাল ও ইন্সিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজি(আইএইচটি) এর চিকিৎসকগণ।

সদ্য প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় ফৌজদারহাটের বিআইটিডি থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।অতিদ্রুত এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।